পাশ্চাত্যের নারীবাদী আন্দোলন নারীকে বিভিন্নভাবে ক্ষমতায়ন করলেও, সামন্ত সমাজের মত ‘নারী প্রধানত পুরুষের ইচ্ছাধীন ও ভোগের বস্তু’ থেকে বাঁচাতে পারেনি কেন, আমার অনেক দিনের প্রশ্ন। ব্যাপারটা অশ্লীল, কিন্তু মেয়ের বাপ হবার পর থেকে বিষয়টা আমাকে ভাবাচ্ছে। পশ্চিমে নারীর পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত এমন কোন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাই যা ব্যবসার উপাদান নয়। বলতে পারেন পুরুষের ক্ষেত্রেও তো এটা কমবেশি প্রযোজ্য। ফেয়ার এনাফ। কিন্তু দৃষ্টিসন্ত্রাস (gaze) বিষয়টা কিভাবে ব্যখ্যা করা হবে? ব্রিটেনের রাস্তায় গরমের সময় অধিকাংশ পুরুষ যেখানে শরীর ঢেকে রাখা পোষাক পরে, সেখানে অধিকাংশ নারী পুরো উলটো। নারীদের যেন প্রতিযোগিতা থাকে শরীরের বিভিন্ন অংশকে উন্মুক্ত রাখা। আধুনিকতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত চয়েস, পুরুষের অধীনতা থেকে মুক্তি ইত্যাদি চেরাগায়িত (enlightened) জার্গন বা গরম আবহাওয়ার কারনে ‘যদি’ নারী পোষাকের সাইজ ছোট হয়ে আসে, তাহলে পুরুষের কাপড়ও ছোট থেকে ছোটতর হল না কেন? পুরুষরা কি চেরাগায়িত হন না?

আমি আমার গিন্নিকে জিজ্ঞেস করেছিঃ স্বল্প পোষাকের নারীদের দিকে নারীরা তাকায় কিনা বা কিভাবে দেখে? তার কাছে এসব বিরক্তিকর লাগে। তাহলে এই নারীদের দিকে কামুক নজর (দৃষ্টিসন্ত্রাস) দিয়ে মজা লয় কেঃ মোটাদাগে পুরুষ। সামন্ত যুগে যে পুরুষ কেবল ১/২/৩ নারী দেখত, এখন দৈনিক ডজনে ডজনে নারীর আপাদমস্তক দেখতে সে একপ্রকার বাধ্য। নারী নিজেই সে ‘চাহিদার’ যোগান দিচ্ছে! শুধু তাই নয়, নারীকে অবাধ ‘স্বাধীনতার’ নামে পন্য করে যে ইন্ডাস্ট্রিগুলো গড়ে উঠেছে, খোঁজ নিলে দেখা যাবে তার অধিকাংশই পুরুষদের নিয়ন্ত্রণে। দিন শেষে, মুভি বা সিনেমার জগত, মডেলিং, নাটক-শিল্প, পর্ণ এমনকি খেলাধুলার জগতেও পুরুষের ভোগের (দৃষ্টিভোগ) বস্তু হওয়াই নারী স্বাধীনতার গন্তব্য গিয়ে ঠেকেছে। এসব দেখে আমার মনে হয় নারীরা আজও ‘পুরুষের ইচ্ছাধীন ও ভোগের বস্তু’ হিসেবেই রয়ে গেছে। আগে যেখানে এটা জায়েজ করা হত ধর্ম ও সমাজের নামে, এখন সেটা ঘটে ডিজাইন ও চয়েসের নামে। আমি এই বন্দি দশা থেকে নারীর মুক্তি কামনা করি।